"> ডুফা সন্তানদের নিয়ে ডুফা কার্যালয়ে দিনব্যাপী ‘যৌন হয়রানী ও উৎপীড়ন’ কর্মশালা – DUFA
Dhaka University Friends Alliance (DUFA) Session 1995-96

ডুফা সন্তানদের নিয়ে ডুফা কার্যালয়ে দিনব্যাপী ‘যৌন হয়রানী ও উৎপীড়ন’ কর্মশালা

২০ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ডুফা সন্তানদের নিয়ে ডুফা কার্যালয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালাটি ছিল ‘যৌন হয়রানী ও উৎপীড়ন’ মোকাবেলায় সন্তানদের সচেতন ও প্রস্তুত করা, তাদের মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্রকার হয়রানী ও উৎপীড়ন সম্পর্কে সম্যক ধারনা দেয়া। গুড টাচ, ব্যাড টাচ সহ বিভিন্ন প্রকার হয়রানী নিয়ে ধারনা দেয়া হয় এবং এ ধরনের বাস্তবতায় সন্তানদের করণীয় এবং কোন পর্যায়ে গেলে বিষয়গুলো অভিভাবকের গোচরীভূত করা প্রয়োজন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য প্রস্তুত করা। আমাদের লক্ষ্য আমাদের সন্তানরা যেন নিরাপদ থাকে এবং সচেতনতা বোধ তৈরী করে তাদের মাধ্যমে অন্যান্য সন্তানরাও ঘরে বাইরে যেন নিরাপদ থাকে। কর্মশালায় অংশ গ্রহনকারী সন্তানরা যেন তাদের সম বয়সী ভাই-বোন, কাজিন, প্রতিবেশী, খেলার সাথী ও স্কুলের বন্ধুদের সাথেও তাদের লব্ধ জ্ঞান শেয়ার করে তাদেরও যেন সচেতন ও সহযোগীতা করে তোলে। এতে সমাজ তথা রাষ্ট্র উপকৃত হবে যার সুফল আমরাই ভোগ করব।

কর্মশালার পর আজ অনেক বন্ধু থেকে তাদের সন্তানদের কর্মশালা বিষয়ে ফীড ব্যাক নেয়ার চেষ্টা করেছি, সবাই সন্তানদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে খুশী এবং অনেক সন্তান তার বাবা/মাকে এমনও বলেছে সব তোমাদের সাথে শেয়ার করবো না, আমাদের কিছু কনফিডেন্সিয়াল বিষয় আছে, মাশাআল্লাহ! তারা পরবর্তীতে এ ধরনের আরো কর্মশালায় অংশগ্রহণ করতেও আগ্ৰহ প্রকাশ করেছে !

যাইহোক, সন্তানরা যেভাবে কর্মশালায় একাত্ব হয়েছিল তা অসম্ভব উৎসাহ ব্যঞ্জক ছিল, তবুও পদ্মা গ্রুপ নিয়ে আমাদের কিঞ্চিত আশংকা ছিল। এত ছোট বাবা-মা দের নাসিমা আপা ও তার টীম প্রায় ২.৩০ ঘন্টা কিভাবে এঙ্গেজ রাখবেন ভাবনায় ছিলাম। মজার বিষয় হচ্ছে ২.৩০ ঘন্টার সেশন প্রায় ৩ ঘন্টা পর নাসিমা আপা যখন শেষ বলে ঘোষনা দিচ্ছিলেন তখন অনেক জুনিয়র ‘আন্টি এত তাড়াতাড়ি শেষ করে দিচ্ছ কেন?’ বলে অভিযোগ করে!!!!

পুরো আয়োজনটা একটা অসাধারন টীম ওয়ার্ক ছিল এবং আমরা আমাদের দিক থেকে আয়োজনে কোন কমতি না রাখারই চেষ্টা করেছি তবুও কোন কমতি থেকে গেলে আয়োজন সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কর্মশালা আয়োজনে পর্দার আড়ালে থাকা এমন কিছু মানুষ আছে যাদের ধন্যবাদ দিয়ে খাটো করতে চাই না তবুও সকলের পক্ষ থেকে নাম উল্লেখ না করলে অকৃতজ্ঞতা হবে।

১। প্রথমেই স্পন্সর সংগ্রহের জন্য ডুফা সাধারণ সম্পাদক ও বন্ধু Syed Neyamul’কে, সে নিজের নিরন্তর চেষ্টায় শেষ মূহুর্তে মূল স্পন্সর ও ডেকোরেশন স্পন্সরের ব্যবস্থা করে। কর্মশালা পরিকল্পনার শুরু থেকে অসম্ভব উৎসাহ প্রদান করে এবং বার বার আশ্বস্ত করে কাজ এগিয়ে নে যা যা লাগে ব্যবস্থা হয়ে যাবে। নেয়ামের এই মানসিক সাপোর্ট আমরা যৎ সামান্য যতটুকুই করতে পেরেছি, তার পেছনের একটা বড় কারণ! আমরা যা, যেভাবে করতে চেয়েছি এক বাক্যে ‘হ্যাঁ’ বলে আস্থা রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা দোস্ত! আশা করি আমাদের টীম ওয়ার্ক ডুফাকে নিরাশ করেনি।

২। ডুফা সভাপতি ও বন্ধু Akm Enayet Hossain পল্লব এখনো ডেঙ্গুর ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তবুও সাজ সজ্জার দিন সন্ধ্যায় মানা করা সত্ত্বেও উপস্থিত থেকে শেষ পর্যন্ত সহযোগীতা ও কাজে হাত লাগায়। শেষ মূহুর্তের সিদ্ধান্তে অভিনন্দন পত্র ডিজাইন ও তৈরীতে Aslam কে সাথে নিয়ে মেধা ও শ্রম ব্যয় করে কাজটি সফলভাবে সম্পাদন করে, যা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশী সুন্দর হয়েছে। পল্লব অনুষ্ঠানের শুরু থেকে সবগুলো অভিনন্দন পত্র অভিভাবকের নাম, স্কুলের নাম, সঠিক বানান ইত্যাদি সংগ্রহ করে নিজে হাতে লেখে। এ কাজে বন্ধু Shishir সহ আরো কয়েক বন্ধু পল্লবকে সার্বক্ষনিক সহযোগীতা করে। আসলামকে অসংখ্য ধন্যবাদ, নিজের ব্যস্ততার পরেও অনেক সময় নিয়ে সার্টিফিকেট ডিজাইনে ও প্রিন্টে সাহায্যের জন্য! পল্লব, নেয়াম, রফিক ও ইশরাত কর্মশালার খুঁটিনাটি প্রতিটি বিষয়ে সার্বক্ষণিক তদারক ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিজেরা এগিয়ে এসে সম্পাদন করায় আমাদের কাজ সহজ করে দিয়েছে।

৩। Israt Jahan Shahana কর্মশালা কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রস্তুতির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটা গ্যাপে নিজে উপস্থিত থেকে সর্বাত্নক সহযোগীতা করেছে। অংশ গ্রহনকারীদের তথ্য সংগ্রহ, তাদের সাথে যোগাযোগ, অভিভাবক বন্ধুদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা, ডেকোরেশন আইটেম ক্রয় ও সাজানোয় সহযোগীতা করা, কর্মশালা পরিকল্পনায় রিপা আমাকে প্রয়োজনীয় সব ক্ষেত্রে পাশে থাকা সহ সাপোর্ট আরও কত কি। ভাইয়া দেশে নেই তারপরেও ঘর ও সন্তান সামলিয়ে তোর অসাধরণ মেধা, শ্রম ও ডেডিকেশন এই কর্মশালা সফল হওয়ার পেছনের অন্যতম একটা কারণ। আম্মা তোর সাথে কত রাগা রাগি করেছি, হাবি জাবি কি বলেছি মনে করতেও চাই না তবুও তুই সব ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখায় আমাকে আর মাফ চাইতে হল না। (নেক্সট টাইম পিডামু 🤪)

৪। আমার ‘ব্রাদার ফ্রম এনাদার মাদার’ Md Rafiqul Islam তোর অপারেশনের পর কি পরিমান বিশ্রাম পেয়েছিস আমার চেয়ে ভাল কে জানে? সাজ সজ্জার দিন সন্ধ্যায় তুই আসবি না বলেও যখন বললি ডুফা অফিসে উঠছিস সে মূহুর্তে আমার মানসিক অবস্থা কি ছিল তুষার দেখেছে এবং জানার পর আমি তুষারকে বলছিলাম রফিক চলে আসছে আর কোন টেনশান নাই! অসুস্থ ও ক্লান্ত থাকাত পরেও সব কাজ শেষ করে পল্লব সহ সবার শেষে বের হলি এবং বার বার অনুরোধে কর্মশালার দিন মেডিক্যাল রিজনে আসবি না বলেও প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সকাল ৮ টায় তুই ডুফা অফিসে উপস্থিত হলি! সারা দিন প্রতিটা বিষয় যেভাবে লুক আফটার করলি, সব কাজ গুছিয়ে সবার শেষে তুই আর পল্লব বের হলি! কি বললে যথাযথ এপ্রিশিয়েট করা হবে আমার জানা নেই।

৫। Shanjida Khan Ripa নেত্রী তুই শুধু ডুফা জেন্ডার সেক্রেটারী ও উইমেন, চিল্ড্রেন এন্ড ফ্যামিলি এফেয়ার্স সাব কমিটির কো-অর্ডিনেটর হিসেব নয়, ডুফা সদস্য, বন্ধু ও মানুষ হিসেবে তুই অসাধারণ। তোর পেশাদারি চাপ ও পারিবারিক চরম ব্যস্ততায়ও কিভাবে এত ডিটেইল এবং সফল একটা কর্মশালা সম্পাদন করলি, অবাক হয়ে শুধু ভাবি। সব দিক কি সুন্দরভাবে ম্যানেজ করলি, তুই কি কি করেছিস ডুফার সবাই জানে আর তাছাড়া দিন দিন হাতি হয়ে যাচ্ছিস আর বেশী ফোলাবো না। তবে হ্যা, ভাল কিছু করার ডিডিকেশন থেকেই এ সম্ভব, তুই ডুফার সম্পদ! (তোরে মর্গেজ দিমু 😁)!

নাসিমা আক্তার আপা ও ফ্রিডম উইথইনের পুরো টীমকে কৃতজ্ঞতা, ডুফার সন্তানদের জন্য ডুফারই সাজানো পরিকল্পনাকে সফল ও সার্থক করতে ধৈর্য্য সহকারে এত লম্বা সময় দেয়ার জন্য। আপার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে কোন অর্থনৈতিক প্যারামিটারে পরিমাপ সম্ভব না। আপা, সমগ্র ডুফা পরিবারের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা!

ডুফা সন্তান ও সন্তানদের নিয়ে উপস্থিত থাকা বন্ধু ও ভাবীদের কারণে ডুফা অফিস গতকাল বন্ধুদের এক অসাধারণ মিলন মেলায় পরিণত হয়। আমাদের সন্তানরা প্রতিটা মূহুর্তে যেভাবে উপভোগ করেছে আমরাও তার চেয়ে কম করিনি। আস্থা রেখে অংশ গ্রহন করা ও উপস্থিত থেকে উৎসাহ প্রদানের জন্য সবাইকে অন্তর থেকে সাধুবাদ জানাই।

পরিশেষে বলতে চাই, মানুষের ২ টি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য। একটি শারিরীক স্বাস্থ্য ও অপরটি মানসিক স্বাস্থ্য কিন্তু আমাদের দেশে দ্বিতীয় প্রকারের তেমন কোন স্বীকৃতি নাই। মানসিক স্বাস্থ্যও শারিরীক স্বাস্থ্যের সাথে একইভাবে সমান গুরুত্বপূর্ণ। সে হিসেবে তোমরা যারা সন্তানদের অংশ গ্রহন করিয়েছো তারা ও তাদের সন্তানরা এগিয়ে থাকলে তোমাদের অভিনন্দন ও সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুভ কামনা।

ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ!

সোহরাব হোসেন চৌধুরী, সুমন